পুরনো ঐতিহ্য ও উৎসবের আমেজ ফিরিয়ে আনতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। মাসব্যাপী এ মেলায় স্টল, দোকান ও বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইচ্ছুক ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আয়োজক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তার বিশেষ প্রস্তুতি
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হবে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী, নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় একটি ত্রুটিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুমের ব্যবস্থা থাকবে।
আয়োজক কমিটির প্রতিনিধি মনোয়ার হাসান জীবন বলেন, “মেলায় আগত দর্শনার্থী, ব্যবসায়ী ও স্টলমালিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দেখা দিলে সরাসরি আয়োজক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা দ্রুত সমস্যা সমাধান করে মেলার পরিবেশ সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে বদ্ধপরিকর।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে আসছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭-১৮ বছর পর বিএনপি সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের আয়োজনকে ঘিরে মানুষের মাঝে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অতীতেও বিএনপি সরকারের সময় বাণিজ্য মেলাকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছিল। সেই ঐতিহ্য ধারণ করে এবারও একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল মেলা উপহার দিতে আমরা কাজ করছি।”
পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা ও বিনোদনের সুযোগ
আয়োজকরা জানান, মেলায় শিশুদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন আধুনিক রাইড ও আকর্ষণীয় আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের জন্য থাকবে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটার সুব্যবস্থা।
মেলায় কসমেটিকস, পোশাক, জুতা, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্য পাওয়া যাবে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যবসায়ীরা তাঁদের পণ্যের পসরা নিয়ে এতে অংশ নেবেন। এছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পণ্যের সমাহার থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য।
ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের আহ্বান
মনোয়ার হাসান জীবন বলেন, “আমরা চাই, এই মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ব্যবসায়ী ও স্টলমালিক নিরাপদ পরিবেশে তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা করুন। তাঁদের পণ্য ও ব্যবসায়িক স্বার্থের সুরক্ষাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল একটি মেলার আয়োজন নয়, বরং দর্শনার্থীদের বিনোদন, কেনাকাটা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। সবার সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হবে।”
মেলায় আসার আমন্ত্রণ
সার্বস্তরের মানুষকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকেরা। দর্শনার্থীদের স্বস্তি, নিরাপত্তা এবং কেনাকাটার চমৎকার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
পাশাপাশি যেসব ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান মেলায় স্টল বা দোকান নিতে আগ্রহী, তাঁদের বিস্তারিত তথ্য ও ভাড়ার শর্ত জানতে দ্রুত সরাসরি আয়োজক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

স্টাফ রিপোর্টার 


















