পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি পবিত্র শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ময়মনসিংহে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট দক্ষিণ জেলা ও সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং শুক্রবার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ শোভাযাত্রায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কর্মী-সমর্থক ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রাটি ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী দুর্গাবাড়ী নাট মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়। পরে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন ধর্মীয় পতাকা ও ব্যানার দেখা যায়। এ সময় ভক্তদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় ‘জয় শ্রীকৃষ্ণ’সহ বিভিন্ন মাঙ্গলিক ধ্বনি। ধর্মীয় আবহে পুরো নগরীতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুর্গাবাড়ী নাট মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মী ও ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এতে অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট দক্ষিণ জেলা, ময়মনসিংহের সভাপতি বাবু শ্রী দেবব্রত দাস দুকূল শোভাযাত্রার আয়োজন ও সার্বিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্ব ও সহযোগিতায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা জন্মাষ্টমীর এ আয়োজনকে সফল করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
শোভাযাত্রাটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন দেবব্রত দাস দুকূল
তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনের নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রার বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট দক্ষিণ জেলা, ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক বাবু শ্রী সংগ্রাম বর্মন।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট সদর উপজেলা, ময়মনসিংহের সভাপতি বাবু শ্রী দেবজ্যোতি দাস রাজীব, সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বাবু শ্রী তাপস চন্দ্র দে, সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু শ্রী মিঠু দাস, বাবু শ্রী সুশান্ত কুমার গৌর, সদর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ ও প্রচার সম্পাদক বাবু শ্রী অমিত হরিজনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট দক্ষিণ জেলা ও সদর উপজেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সদস্য ও সমর্থকরা শোভাযাত্রায় অংশ নেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
আয়োজকরা বলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের মূল শিক্ষা হলো অন্যায়, অসত্য ও অধর্মের বিরুদ্ধে ন্যায়, সত্য, ধর্ম ও মানবতার প্রতিষ্ঠা। শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তারা আরও বলেন, ধর্মীয় উৎসব শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধিরও অন্যতম মাধ্যম। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শোভাযাত্রা শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। এ সময় ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করা হয়—সকলের জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি, সুখ ও মঙ্গল নেমে আসুক। সমাজ থেকে অশুভ ও অধর্ম দূর হয়ে সত্য, ন্যায়, মানবতা ও সম্প্রীতির প্রতিষ্ঠা হোক।
‘জয় শ্রীকৃষ্ণ’ ও ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে’ ধ্বনিতে মুখরিত এ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহে পবিত্র জন্মাষ্টমী উদযাপনে ধর্মীয় আবেগ, সম্প্রীতি ও ঐক্যের এক সুন্দর বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 


















