জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলায় একটি খাবারের হোটেলে হালিমে মাছি পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হোটেলের এক কর্মচারীর গায়ে হালিমের বাটি ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারকের বিরুদ্ধে।
গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতের এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাত ৮টার দিকে একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার অন্তত ২৫টি দোকান বন্ধ করে দিলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করে।
দোকান বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে শুরু করলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জাকসু নেতার এই আচরণের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সংহতি প্রকাশ করে অভিযুক্ত নেতার বিচার দাবি করেন। অন্যদিকে, ছাত্রশক্তি থেকে নির্বাচিত জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতিসহ একটি পক্ষ দোকানগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানান। যদিও তারা হোসনে মোবারকের আচরণের বিচার চান, তবে সব দোকান বন্ধ করে দেওয়াকে তারা সঠিক সমাধান বলে মনে করেননি।
অভিযুক্ত জাকসু নেতা হোসনে মোবারক শারীরিক আঘাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে খাবারের মানের প্রতিবাদ করেছি। দুর্গন্ধযুক্ত খাবারে মাছি দেখে ক্ষোভ থেকে বাটিটি ছুড়ে মারি, তবে কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, খাবারের মান নিশ্চিত করা কেবল জাকসুর একার কাজ নয়, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও যেকোনো অসংগতি দেখলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত।
উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দিতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাটি ছুড়ে মারা এবং দোকান বন্ধ রাখা—এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করেই মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। উদ্ভুত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আগামীকাল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

ডিজিটাল রিপোর্ট 
























