খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গভীর রাতে আজমল (২১) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, যারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন, তারা দাবি করেন যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে পড়ে গিয়ে আজমল আহত হয়েছেন।
হাসপাতালের ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্রে নিহতের নাম আজমল, বাবার নাম কুতব এবং ঠিকানা গল্লামারী, হরিণটানা, খুলনা উল্লেখ রয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে আজমলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকেরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এদিকে নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তীব্র সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তিনি আসলেই ভবন থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন, নাকি এর আগে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল—তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
এ ঘটনায় বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আজমল কীভাবে আহত হলেন, কারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন এবং মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে আজমলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

স্টাফ রিপোটার 


















