ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে সেরা, নালিতাবাড়ীর সাদিয়ার ঝুলিতে ভিসি অ্যাওয়ার্ড শেরপুরে ঘুমন্ত স্বামীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত, ময়মনসিংহে প্রেরণ অটোরিকশাচালকের মেয়ে মীমের জিপিএ-৫: দারিদ্র্যকে হার মানানো এক অনুপ্রেরণার গল্প ঘুষের অভিযোগ দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে, বদলি হলেন ডায়নামিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন,জনমনে প্রশ্ন সরকার বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত করবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাশেদ খাঁন ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে তারেক রহমান দেশকে সম্মানিত করেছেন বললেন রিজভী ফরিদপুর থানা পুলিশের অভিযানে শিশু হত্যার মূল আসামী গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া ব্যাটারী চালিত অটোভ্যান উদ্ধার ​সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে জামায়াতের আপত্তি, কিন্তু সাইবার অপরাধ রুখতে আইনের পক্ষে তথ্যমন্ত্রী ​এশিয়ান গেমসে যোগ দিতে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান গেলেন সেনাপ্রধান রাজধানীসহ ২৫ জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ, সাথেই ভারী বর্ষণের প্রবল পূর্বাভাস
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

অটোরিকশাচালকের মেয়ে মীমের জিপিএ-৫: দারিদ্র্যকে হার মানানো এক অনুপ্রেরণার গল্প

দিনভর অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে চলে সংসার। সেই সীমিত আয়ের পরিবারে জন্ম নেওয়া মেয়ে মীম জান্নাতের চোখে ছিল বড় হওয়ার স্বপ্ন। অর্থের অভাব, সুযোগ-সুবিধার সংকট কিংবা জীবনের নানা প্রতিকূলতা—কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের জোরে শেষ পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে দারিদ্র্যকে হার মানিয়েছে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর মেধাবী শিক্ষার্থী মীম জান্নাত।

মীম উপজেলার ভেদীকুড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার বাড়ি নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের আমবাগান-ভেদীকুড়া এলাকায়। বাবা গোলাম মোস্তফা একজন অটোরিকশাচালক। সংসারের নিত্য প্রয়োজন মেটাতেই যেখানে পরিবারের হিমশিম খেতে হয়, সেখানে পড়াশোনার জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধা পাওয়া ছিল তার জন্য বিলাসিতার মতো।

তবুও থেমে থাকেনি মীম। প্রতিদিন নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের পরামর্শ অনুসরণ এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থেকে এগিয়ে গেছে সে। তার বিশ্বাস ছিল—পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না।

ফল প্রকাশের দিন সেই বিশ্বাসে কিছুটা ধাক্কা লাগে। এসএসসি পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফলে জিপিএ-৫ না পাওয়ায় হতাশ হয়েছিল সে। কিন্তু নিজের উত্তরপত্র ও প্রস্তুতির ওপর আস্থা হারায়নি। দৃঢ় মনোবল নিয়ে শিক্ষা বোর্ডে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। অবশেষে আসে সুখবর—পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফলে পরিবর্তন হয়ে মীম অর্জন করে কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫।
এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের ঢেউ বয়ে যায়। অনেকেই মীমকে অভিনন্দন জানিয়ে তার সংগ্রামী জীবনের গল্পকে অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

ভেদীকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, মীম অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী ও স্বপ্নবাজ একজন শিক্ষার্থী। উপযুক্ত সহায়তা পেলে সে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবে।
তবে সাফল্যের এই আনন্দের মাঝেও রয়েছে এক অনিশ্চয়তার ছায়া। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে উচ্চশিক্ষার পথ তার জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কলেজে ভর্তি, বই-খাতা, যাতায়াত ও অন্যান্য শিক্ষাব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, শিক্ষানুরাগী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এগিয়ে এলে মীমের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে যাবে না। বরং সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একদিন সমাজ ও দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে অর্জিত মীম জান্নাতের এই সাফল্য শুধু একটি ফলাফল নয়; এটি প্রমাণ করে যে দৃঢ় সংকল্প, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে প্রতিকূলতাকেও জয় করা সম্ভব। তার গল্প আজ নালিতাবাড়ীসহ পুরো জেলার শিক্ষার্থীদের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে সেরা, নালিতাবাড়ীর সাদিয়ার ঝুলিতে ভিসি অ্যাওয়ার্ড

অটোরিকশাচালকের মেয়ে মীমের জিপিএ-৫: দারিদ্র্যকে হার মানানো এক অনুপ্রেরণার গল্প

আপডেট সময় ১০:৩৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনভর অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে চলে সংসার। সেই সীমিত আয়ের পরিবারে জন্ম নেওয়া মেয়ে মীম জান্নাতের চোখে ছিল বড় হওয়ার স্বপ্ন। অর্থের অভাব, সুযোগ-সুবিধার সংকট কিংবা জীবনের নানা প্রতিকূলতা—কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের জোরে শেষ পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে দারিদ্র্যকে হার মানিয়েছে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর মেধাবী শিক্ষার্থী মীম জান্নাত।

মীম উপজেলার ভেদীকুড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার বাড়ি নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের আমবাগান-ভেদীকুড়া এলাকায়। বাবা গোলাম মোস্তফা একজন অটোরিকশাচালক। সংসারের নিত্য প্রয়োজন মেটাতেই যেখানে পরিবারের হিমশিম খেতে হয়, সেখানে পড়াশোনার জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধা পাওয়া ছিল তার জন্য বিলাসিতার মতো।

তবুও থেমে থাকেনি মীম। প্রতিদিন নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের পরামর্শ অনুসরণ এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থেকে এগিয়ে গেছে সে। তার বিশ্বাস ছিল—পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না।

ফল প্রকাশের দিন সেই বিশ্বাসে কিছুটা ধাক্কা লাগে। এসএসসি পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফলে জিপিএ-৫ না পাওয়ায় হতাশ হয়েছিল সে। কিন্তু নিজের উত্তরপত্র ও প্রস্তুতির ওপর আস্থা হারায়নি। দৃঢ় মনোবল নিয়ে শিক্ষা বোর্ডে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। অবশেষে আসে সুখবর—পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফলে পরিবর্তন হয়ে মীম অর্জন করে কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫।
এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের ঢেউ বয়ে যায়। অনেকেই মীমকে অভিনন্দন জানিয়ে তার সংগ্রামী জীবনের গল্পকে অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

ভেদীকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, মীম অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী ও স্বপ্নবাজ একজন শিক্ষার্থী। উপযুক্ত সহায়তা পেলে সে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবে।
তবে সাফল্যের এই আনন্দের মাঝেও রয়েছে এক অনিশ্চয়তার ছায়া। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে উচ্চশিক্ষার পথ তার জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কলেজে ভর্তি, বই-খাতা, যাতায়াত ও অন্যান্য শিক্ষাব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, শিক্ষানুরাগী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এগিয়ে এলে মীমের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে যাবে না। বরং সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একদিন সমাজ ও দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে অর্জিত মীম জান্নাতের এই সাফল্য শুধু একটি ফলাফল নয়; এটি প্রমাণ করে যে দৃঢ় সংকল্প, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে প্রতিকূলতাকেও জয় করা সম্ভব। তার গল্প আজ নালিতাবাড়ীসহ পুরো জেলার শিক্ষার্থীদের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।