ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে সেরা, নালিতাবাড়ীর সাদিয়ার ঝুলিতে ভিসি অ্যাওয়ার্ড শেরপুরে ঘুমন্ত স্বামীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত, ময়মনসিংহে প্রেরণ অটোরিকশাচালকের মেয়ে মীমের জিপিএ-৫: দারিদ্র্যকে হার মানানো এক অনুপ্রেরণার গল্প ঘুষের অভিযোগ দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে, বদলি হলেন ডায়নামিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন,জনমনে প্রশ্ন সরকার বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত করবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাশেদ খাঁন ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে তারেক রহমান দেশকে সম্মানিত করেছেন বললেন রিজভী ফরিদপুর থানা পুলিশের অভিযানে শিশু হত্যার মূল আসামী গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া ব্যাটারী চালিত অটোভ্যান উদ্ধার ​সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে জামায়াতের আপত্তি, কিন্তু সাইবার অপরাধ রুখতে আইনের পক্ষে তথ্যমন্ত্রী ​এশিয়ান গেমসে যোগ দিতে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান গেলেন সেনাপ্রধান রাজধানীসহ ২৫ জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ, সাথেই ভারী বর্ষণের প্রবল পূর্বাভাস
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

কারাগারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা: ৭ বছর পর অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত মোবাশ্বেরা

  • ডিজিটাল রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক দিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মায়ের হাত ধরে বেরিয়ে এলো সাত বছরের শিশু মোবাশ্বেরা। কারাগারই ছিল তার জন্ম ও বেড়ে ওঠার ঠিকানা। বাইরের পৃথিবী কেমন, তা জানার সুযোগ হয়নি। নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় খালাস পেয়ে মা কামরুন্নাহার মনি মুক্তি পাওয়ার দিন মোবাশ্বেরারও শেষ হলো কারাজীবন।

এদিন দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মোবাশ্বেরার মা কামরুন্নাহার মনি মুক্তি পান। একই দিন ওই মামলায় খালাস পাওয়া সাত জন গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এর আগে, নুসরাত হত্যা মামলার আসামি কামরুন্নাহার মনি গ্রেপ্তারের সময় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ২০১৯ সালে ওই অবস্থাতেই কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। কারাবাস চলাকালে জন্ম হওয়া কন্যাসন্তানের নাম রাখা হয় মোবাশ্বেরা। জন্মের পর থেকে মায়ের সঙ্গে কারাগারেই কেটে যায় সাতটি বছর।

এদিকে কারাগারের বাইরে অপেক্ষা করা স্বজনরা ফুলের মালা ও তোড়া দিয়ে তাদের বরণ করে নেন। এ সময় মায়ের মুক্তির সঙ্গে শিশু বেরিয়ে আসার ঘটনাটি উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

মেয়ের পড়াশোনার জন্য কারাগারের ভেতরেই নিজের মতো করে ব্যবস্থা করেছিলেন মনি। তিনি বলেন, ‘আমি একটি জামা কেটে তাকে একটি স্কুলব্যাগ বানিয়ে দিয়েছি। সে স্কুলে যেত তিনটি বই নিয়ে। স্কুলব্যাগ কেমন হয়, সে তো জানে না। স্কুলব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে হয়, তা আমি তাকে কারাগারের ভেতর থেকেই শিখিয়েছি।’

মোবাশ্বেরার শৈশব আর অন্য শিশুদের মতো নয়। কারাগারের পরিবেশ, মায়ের সঙ্গ আর সীমিত পরিসরই ছিল তার পৃথিবী। সেখানেই পড়াশোনার হাতেখড়ি, মায়ের কাছ থেকে কোরআন শেখা এবং বেড়ে ওঠা। কারাগারের চার দেওয়ালের বাইরে বিশাল পৃথিবীটি এখন তার কাছে একেবারেই নতুন।

মনি বলেন, ‘আমার মেয়ে যে বাইরের জীবনটা, তাকে বাইরে দিয়ে দিলে সে ভালো থাকত না। সন্তান মা ছাড়া কখনো ভালো থাকে না। মা যেভাবে যত্ন করে রাখে, কখনো কেউ রাখে না। মা হচ্ছে একটা চাদর।’

কারামুক্ত অন্যদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ছিল উচ্ছ্বাস। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষে স্বজনকে কাছে পাওয়ার আনন্দে কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি, কেউ আবার প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরে প্রকাশ করেছেন স্বস্তি ও ভালোবাসা।

মুক্তিপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, আব্দুর রহিম শরীফ।

এ বিষয়ে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার জাকির হোসেন বলেন, মুক্তির যাবতীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে তাদের পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে সেরা, নালিতাবাড়ীর সাদিয়ার ঝুলিতে ভিসি অ্যাওয়ার্ড

কারাগারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা: ৭ বছর পর অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত মোবাশ্বেরা

আপডেট সময় ১০:২৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক দিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মায়ের হাত ধরে বেরিয়ে এলো সাত বছরের শিশু মোবাশ্বেরা। কারাগারই ছিল তার জন্ম ও বেড়ে ওঠার ঠিকানা। বাইরের পৃথিবী কেমন, তা জানার সুযোগ হয়নি। নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় খালাস পেয়ে মা কামরুন্নাহার মনি মুক্তি পাওয়ার দিন মোবাশ্বেরারও শেষ হলো কারাজীবন।

এদিন দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মোবাশ্বেরার মা কামরুন্নাহার মনি মুক্তি পান। একই দিন ওই মামলায় খালাস পাওয়া সাত জন গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এর আগে, নুসরাত হত্যা মামলার আসামি কামরুন্নাহার মনি গ্রেপ্তারের সময় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ২০১৯ সালে ওই অবস্থাতেই কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। কারাবাস চলাকালে জন্ম হওয়া কন্যাসন্তানের নাম রাখা হয় মোবাশ্বেরা। জন্মের পর থেকে মায়ের সঙ্গে কারাগারেই কেটে যায় সাতটি বছর।

এদিকে কারাগারের বাইরে অপেক্ষা করা স্বজনরা ফুলের মালা ও তোড়া দিয়ে তাদের বরণ করে নেন। এ সময় মায়ের মুক্তির সঙ্গে শিশু বেরিয়ে আসার ঘটনাটি উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

মেয়ের পড়াশোনার জন্য কারাগারের ভেতরেই নিজের মতো করে ব্যবস্থা করেছিলেন মনি। তিনি বলেন, ‘আমি একটি জামা কেটে তাকে একটি স্কুলব্যাগ বানিয়ে দিয়েছি। সে স্কুলে যেত তিনটি বই নিয়ে। স্কুলব্যাগ কেমন হয়, সে তো জানে না। স্কুলব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে হয়, তা আমি তাকে কারাগারের ভেতর থেকেই শিখিয়েছি।’

মোবাশ্বেরার শৈশব আর অন্য শিশুদের মতো নয়। কারাগারের পরিবেশ, মায়ের সঙ্গ আর সীমিত পরিসরই ছিল তার পৃথিবী। সেখানেই পড়াশোনার হাতেখড়ি, মায়ের কাছ থেকে কোরআন শেখা এবং বেড়ে ওঠা। কারাগারের চার দেওয়ালের বাইরে বিশাল পৃথিবীটি এখন তার কাছে একেবারেই নতুন।

মনি বলেন, ‘আমার মেয়ে যে বাইরের জীবনটা, তাকে বাইরে দিয়ে দিলে সে ভালো থাকত না। সন্তান মা ছাড়া কখনো ভালো থাকে না। মা যেভাবে যত্ন করে রাখে, কখনো কেউ রাখে না। মা হচ্ছে একটা চাদর।’

কারামুক্ত অন্যদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ছিল উচ্ছ্বাস। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষে স্বজনকে কাছে পাওয়ার আনন্দে কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি, কেউ আবার প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরে প্রকাশ করেছেন স্বস্তি ও ভালোবাসা।

মুক্তিপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, আব্দুর রহিম শরীফ।

এ বিষয়ে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার জাকির হোসেন বলেন, মুক্তির যাবতীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে তাদের পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।