ময়মনসিংহ , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পাঁচজন সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ড, বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন ময়মনসিংহের সাংবাদিকবৃন্দ বারোমারী মিশনে ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসবের প্রস্তুতি পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সের আরআই তারা মিয়ার বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাড়ির পাশের জমে থাকা পানিতে ডুবে হুমাইশা আক্তার (২) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে দিনাজপুরে রাস্তার জমি ও পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার পূর্বধলায় শিক্ষক-কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়নের নির্বাচনে সমর্থন চায় রূপন-নিলয়-মোশারফ পরিষদ রাজশাহীতে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন নারায়ণগঞ্জে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন নিহত, পরিবারকে ৮০ হাজার টাকা সহায়তা দিল পূর্বধলা প্রশাসন পূর্বধলায় ভূমি কার্যালয়ে চুরি, তদন্তে সিআইডির ক্রাইম সিন দল পূর্বধলায় ভূমি কার্যালয়ে চুরি, তদন্তে সিআইডির ক্রাইম সিন দল
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

নিহতের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়ানোর আশঙ্কা ইরানে

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৪৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে

ইরানে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষের কঠোর অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা আগের ধারণার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার মঙ্গলবার পার্লামেন্টে বলেছেন, তাদের ধারণা অনুযায়ী অন্তত ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, তবে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, তেহরানের উপকণ্ঠে একটি মর্গের শকিং এক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা সিবিএস নিউজ যাচাই করে নিশ্চিত করেছে।

১৬ মিনিটের ওই ভিডিওটিতে অন্তত ৩৬৬ থেকে ৪০০টি লাশ স্তূপ করে রাখা অবস্থায় দেখা গেছে। ফরেনসিক কর্মীদের মৃতদেহের ওপর জখমের চিহ্ন নথিভুক্ত করতে দেখা যায়, যেখানে গুলির ক্ষত, শটগানের আঘাত এবং ভয়াবহ জখম দৃশ্যমান ছিল। মর্গের ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রক্তাক্ত কাপড় এবং আহাজারি করা মানুষের ভিড় প্রমাণ দিচ্ছে যে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি খতিয়ানের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

ইরান সরকার বিক্ষোভের ফলে নিহতের কোনো আনুষ্ঠানিক ও নিয়মিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তবে রয়টার্স একজন অজ্ঞাতনামা ইরানি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার হতে পারে। ওই কর্মকর্তা সহিংসতার জন্য বিদেশি মদতপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী’ ও ভাড়াতে উসকানিকারীদের দায়ী করেছেন।

এর বিপরীতে নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর প্রধান মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, দমন-পীড়নের যে তথ্য তারা পাচ্ছেন তা কল্পনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নিরাপত্তা বাহিনী তেহরানের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে গিয়ে আহতদের নাম-ঠিকানা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। তার মতে, ইরানবাসীকে একটি বিশাল ‘একাকী কারাকক্ষে’ বন্দি করে নির্যাতন ও হত্যা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতির চরম নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করেছেন যে ‘সাহায্য আসছে’। মঙ্গলবার তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইরানি দেশপ্রেমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নেওয়ার আহ্বান জানান। হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল এই সংকটে সম্ভাব্য সামরিক ও গোপন কৌশলগুলো নিয়ে বৈঠক করেছে।ছবি: সিবিএস নিউজ

পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্পকে প্রথাগত বিমান হামলার বাইরেও বিভিন্ন ধরণের সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানের বিকল্প সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, আন্দোলনকারীদের ওপর এই নৃশংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসবেন না।

এদিকে নির্বাসিত ইরানি ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, ইরানি জনগণ এখন কেবল মৌখিক সমর্থন নয়, বরং কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায়। তার মতে, যত দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ হবে, তত কম প্রাণহানি হবে এবং বর্তমান শাসনের পতন ত্বরান্বিত হবে।

পাহলভি জানিয়েছেন যে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ বর্তমান শাসনের অবসান চায়। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ‘রেসপন্সিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ বা বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষার দায়বদ্ধতা পালনের ওপর নির্ভর করছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচজন সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ড, বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন ময়মনসিংহের সাংবাদিকবৃন্দ

নিহতের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়ানোর আশঙ্কা ইরানে

আপডেট সময় ০৯:৪৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষের কঠোর অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা আগের ধারণার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার মঙ্গলবার পার্লামেন্টে বলেছেন, তাদের ধারণা অনুযায়ী অন্তত ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, তবে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, তেহরানের উপকণ্ঠে একটি মর্গের শকিং এক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা সিবিএস নিউজ যাচাই করে নিশ্চিত করেছে।

১৬ মিনিটের ওই ভিডিওটিতে অন্তত ৩৬৬ থেকে ৪০০টি লাশ স্তূপ করে রাখা অবস্থায় দেখা গেছে। ফরেনসিক কর্মীদের মৃতদেহের ওপর জখমের চিহ্ন নথিভুক্ত করতে দেখা যায়, যেখানে গুলির ক্ষত, শটগানের আঘাত এবং ভয়াবহ জখম দৃশ্যমান ছিল। মর্গের ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রক্তাক্ত কাপড় এবং আহাজারি করা মানুষের ভিড় প্রমাণ দিচ্ছে যে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি খতিয়ানের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

ইরান সরকার বিক্ষোভের ফলে নিহতের কোনো আনুষ্ঠানিক ও নিয়মিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তবে রয়টার্স একজন অজ্ঞাতনামা ইরানি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার হতে পারে। ওই কর্মকর্তা সহিংসতার জন্য বিদেশি মদতপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী’ ও ভাড়াতে উসকানিকারীদের দায়ী করেছেন।

এর বিপরীতে নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর প্রধান মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, দমন-পীড়নের যে তথ্য তারা পাচ্ছেন তা কল্পনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নিরাপত্তা বাহিনী তেহরানের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে গিয়ে আহতদের নাম-ঠিকানা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। তার মতে, ইরানবাসীকে একটি বিশাল ‘একাকী কারাকক্ষে’ বন্দি করে নির্যাতন ও হত্যা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতির চরম নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করেছেন যে ‘সাহায্য আসছে’। মঙ্গলবার তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইরানি দেশপ্রেমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নেওয়ার আহ্বান জানান। হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল এই সংকটে সম্ভাব্য সামরিক ও গোপন কৌশলগুলো নিয়ে বৈঠক করেছে।ছবি: সিবিএস নিউজ

পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্পকে প্রথাগত বিমান হামলার বাইরেও বিভিন্ন ধরণের সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানের বিকল্প সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, আন্দোলনকারীদের ওপর এই নৃশংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসবেন না।

এদিকে নির্বাসিত ইরানি ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, ইরানি জনগণ এখন কেবল মৌখিক সমর্থন নয়, বরং কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায়। তার মতে, যত দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ হবে, তত কম প্রাণহানি হবে এবং বর্তমান শাসনের পতন ত্বরান্বিত হবে।

পাহলভি জানিয়েছেন যে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ বর্তমান শাসনের অবসান চায়। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ‘রেসপন্সিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ বা বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষার দায়বদ্ধতা পালনের ওপর নির্ভর করছে।