মফস্বল ও তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা, নিয়মিত বেতন না পাওয়া এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখার নানা চ্যালেঞ্জ দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু। মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে हाल हीতে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময়কালে তিনি এসব সংকট সরাসরি রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন।
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির সঙ্গে রাষ্ট্রপতির এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে তানভীর হাসান তানু তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে পুরো বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পোস্টে তানভীর হাসান তানু উল্লেখ করেন, মফস্বলের সংবাদকর্মীরা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ সাংবাদিক নিয়মিত বেতন কিংবা সম্মানজনক পারিশ্রমিক পান না। নানা প্রতিকূলতা, হুমকি এবং সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাষ্ট্র যদি গণমাধ্যমকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাধীন সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সাংবাদিক নেতার এই বক্তব্য গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনার পর রাষ্ট্রপতি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য উদ্ধৃত করে তানু লিখেছেন, “রাষ্ট্র তো কাজ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যাটি আপনাদের নিজেদের মধ্যেও রয়েছে।” এ সময় রাষ্ট্রপতি সাংবাদিক সমাজকে নিজেদের মধ্যকার সকল বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকরা এক হলে রাষ্ট্র সবসময় তাঁদের পাশে থাকবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান ও দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তানভীর হাসান তানু তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ভালো থাকলে দেশ, মাটি ও রাষ্ট্রও ভালো থাকবে—এটাই সমগ্র জাতির প্রত্যাশা।
পোস্টের শেষাংশে তানু সমগ্র সাংবাদিক সমাজের প্রতি নিজেদের মধ্যকার বিভেদ ভুলে এক টেবিলে বসে পেশাগত সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান খোঁজার জোরালো আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির সামনে মফস্বল সাংবাদিকদের এই দীর্ঘদিনের সংকট তুলে ধরার ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন এই দাবি ও রাষ্ট্রপতির দেওয়া আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর রূপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক 




















