ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে এই তদন্ত কমিটির প্রধান ও সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই প্রতিনিধি এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধিকে রাখা হয়েছে। লিফটে আগুনের সূত্রপাত বা অন্য কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ জমা দেবে এই কমিটি।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ও উদ্ধারকাজ
গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালের নতুন ভবনের বহির্বিভাগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তে ভবনের বিভিন্ন তলায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, লিফটে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি হয়ে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর খবর
অগ্নিকাণ্ডের পর এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের শাহজাহান (৪০) এবং তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামের কুলসুমা (৩৫) রয়েছেন। আতঙ্কের মধ্যে নিচে নামার সময় হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে তাদের পরিবার দাবি করেছে। এছাড়া ফুলবাড়িয়ার জাহানারা (৫০) নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের ১০ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
এর আগে হুড়োহুড়িতে ছয়জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য সঠিক নয়। প্রশাসনের প্রাথমিক যাচাইয়ে তালিকায় থাকা একজনকে জীবিত পাওয়া গেছে এবং অন্য দুজন হাসপাতালে আনার আগেই স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন বলে তাদের স্বজনেরা নিশ্চিত করেছেন। বিভাগীয় কমিশনার ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানায়, অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হলেও পদদলিত হয়ে সরাসরি কারও মৃত্যুর প্রমাণ এখনো মেলেনি। তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র জানা যাবে।

স্টাফ রিপোর্টার 




















