শেরপুরের নকলা উপজেলার হুজুরিকান্দা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকটি বসতঘর পুড়ে গেছে। এতে লাখ লাখ টাকার সম্পদ ভস্মীভূত হয়ে একাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের বসতঘর, আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও তা দ্রুত আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। নকলা উপজেলায় নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় পাশের উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে। এর ফলে আগুনের ব্যাপক বিস্তার ঘটে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কিন্তু নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। ফলে জানমাল রক্ষায় মানুষকে চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নকলায় একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। প্রতিবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বিষয়টি আলোচনায় এলেও পরে তা আবার চাপা পড়ে যায়।
সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন, আর কত ঘরবাড়ি পুড়লে এবং আর কত পরিবার সর্বস্বান্ত হলে নকলা উপজেলায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে? তারা বলেন, উপজেলার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন এখন সময়ের দাবি।
নকলাবাসীর জানমাল ও সম্পদ রক্ষার স্বার্থে অতিদ্রুত নকলা উপজেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

খন্দকার আব্দুল আলীম, জেলা প্রতিনিধি, শেরপুর 





















