অদম্য মেধা, অধ্যবসায় ও শিক্ষার প্রতি একনিষ্ঠ সাধনার স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বৃত্তি ও মর্যাদাপূর্ণ ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ীর কৃতী সন্তান সাদিয়া বিনতে সোবহান শৈলী। প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি শুধু নালিতাবাড়ী নয়, পুরো শেরপুর জেলার জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করে তিনি বিশেষ সম্মান লাভ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট এবং শিক্ষাবৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
সাদিয়া বিনতে সোবহান শৈলী শেরপুরের নালিতাবাড়ী শহীদ আবদুর রশীদ মহিলা কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী এবং একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুস সোবহানের মেয়ে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত স্নাতক (সম্মান), স্নাতক (পাস) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে সেরা ফলাফল অর্জনকারী ৩৭টি কলেজের ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে এ বছর প্রথমবারের মতো ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার ৫০০ কলেজের প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে।
সাদিয়া ঢাকার লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ থেকে লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০২০ সালে অনার্স পরীক্ষায় তিনি ৩.৮৭ সিজিপিএ এবং ২০২১ সালে মাস্টার্স পরীক্ষায় ৩.৯৭ সিজিপিএ অর্জন করেন। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ ৩.৯৭ সিজিপিএ অর্জনের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট এবং ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবারই প্রথমবারের মতো এ বিশেষ অ্যাওয়ার্ড চালু করেছে।
বর্তমানে সাদিয়া লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের লাইব্রেরিতে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে বিএড কোর্সে অধ্যয়ন করছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি এর আগে আরও দুটি গোল্ড মেডেলসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।
সাদিয়ার বাবা মো. আব্দুস সোবহান বলেন, “মেয়ের এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার এ সাফল্য নালিতাবাড়ীর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও ভালো ফলাফলের জন্য অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা বলেন, সাদিয়ার এ অর্জন নালিতাবাড়ীর জন্য এক অনন্য গৌরব। তাঁর সাফল্য আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বপ্ন দেখার সাহস ও উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করবে।

খন্দকার আব্দুল আলীম, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি 




















