সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা সদরের নাকের ডগায় সামান্য বৃষ্টিতেই দীর্ঘস্থায়ী জলবদ্ধতায় রূপ নেয়। একবার পানি জমলে তা আর সরে না, বরং বছরজুড়ে পানিবন্দী থাকে শত শত পরিবার। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে এমন অবর্ণনীয় দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন বাজার গ্রাম ও বাজার গ্রাম রহিমপুর এলাকার বাসিন্দারা।
উপজেলা সদর কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজার গ্রাম এবং রহিমপুর এলাকার চিত্র এটি। অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু ঘরবাড়ি নয়, রাস্তাঘাট, উঠান ও রান্নাঘর পর্যন্ত ময়লা-দূষিত পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। বছরের পর বছর জমা পানি থেকে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বাধ্য হয়ে ময়লা পানিতে চলাফেরা করায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। মানবেতর এই জীবন সইতে না পেরে অনেক পরিবার ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় জনপ্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট শেষ হলে তাদের আর দেখা মেলে না। উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৫০০ গজ পূর্বে এমন দুরবস্থা চললেও স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাছাড়া গত প্রায় ছয় মাস ধরে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি শূন্য থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়টিতে প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কাশেম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হওয়ার কথা জানিয়ে দায় এড়াতে চান। অন্যদিকে, সম্প্রতি দেবহাটা উপজেলার পাশাপাশি আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করায় বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানিয়েছেন।
দীর্ঘস্থায়ী এই জলবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে এলাকার ভুক্তভোগী জনসাধারণ স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের আশু হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক নজরদারি কামনা করেছেন।

স্টাফ রিপোর্টার 



















