প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ বাড়ানো, বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করা এবং বনসাই শিল্পের নান্দনিকতা ও সম্ভাবনা তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃক্ষ মেলা ও বনসাই প্রদর্শনী।
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের মাঠে পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ক্লাবের আয়োজনে এবং রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটির সহযোগিতায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের অডিটোরিয়ামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজন করা হয় বনসাই বিষয়ক কর্মশালা।
আয়োজনের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. জামিল শরীফ, মডারেটর, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ক্লাব এবং রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটির প্রেসিডেন্ট গুলসান নাসরীন চৌধুরী।
বৃক্ষ মেলা ও বনসাই প্রদর্শনীতে বিভিন্ন ধরনের গাছের পাশাপাশি নান্দনিকভাবে পরিচর্যা করা বিভিন্ন প্রজাতির বনসাই প্রদর্শন করা হয়। ক্ষুদ্র পরিসরে একটি পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার বনসাই শিল্প শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে।
বনসাই শিল্পকে তরুণদের কাছে তুলে ধরছে রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটি
আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটির উদ্যোগে বনসাই শিল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা। সংগঠনটির প্রতিনিধিরা বনসাই চর্চার পাশাপাশি বৃক্ষ পরিচর্যা, প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের গুরুত্ব নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটির প্রেসিডেন্ট গুলসান নাসরীন চৌধুরী বলেন, যারা বৃক্ষ ও বনসাইয়ের চর্চা করেন, তারা প্রকৃতির সঙ্গে একটি নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করেন। বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বনসাই শিল্প মানুষের সৃজনশীলতা ও নান্দনিক বোধকে বিকশিত করতে পারে।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা প্রয়োজন। এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়ায় পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ক্লাবের কমিটি ও সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।একই সঙ্গে আয়োজনের পাশে থাকার জন্য রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটির প্রেসিডেন্ট।
অনুষ্ঠানে রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটির সেক্রেটারি সাকেরা খান, সাংগঠনিক সম্পাদক লিপি ইসমাইল, দপ্তর সম্পাদক মো. আল মামুন স্বাধীন এবং প্রচার সম্পাদক আফরোজা বুলবুল উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী নিয়ে বনসাই কর্মশালা
বৃক্ষ মেলা ও প্রদর্শনীর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় বনসাই কর্মশালা। শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
কর্মশালায় বনসাই তৈরির প্রাথমিক ধারণা, গাছ নির্বাচন, পরিচর্যা, আকৃতি প্রদান ও ছাঁটাইসহ বনসাই শিল্পের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।
কর্মশালা পরিচালনা করেন বনসাই শিল্পী লিপি ইসমাইল, মো. আল মামুন স্বাধীন ও আফরোজা বুলবুল। তারা শিক্ষার্থীদের সামনে বনসাইকে শুধু শখের বিষয় হিসেবে নয়, বরং সৃজনশীল ও নান্দনিক শিল্পচর্চার একটি ক্ষেত্র হিসেবেও তুলে ধরেন।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বনসাই তৈরির বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
উপস্থিত ছিলেন হলের নেতৃবৃন্দ
আয়োজনে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সভাপতি আল মেহরাজ শাহরীয়ার মিথুন, সহ-সভাপতি জহির রায়হান রিপন, সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ উদ্দিন শিমুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরাফাত রহমান উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজন ঘিরে শিক্ষার্থী, প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়। মেলায় বৃক্ষ ও বনসাই দেখার পাশাপাশি অনেকেই বনসাই পরিচর্যা ও চর্চা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য নেন।
অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বৃক্ষ মেলা, বনসাই প্রদর্শনী ও কর্মশালার মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করতে পারে। একই সঙ্গে বনসাই শিল্পের চর্চা সম্প্রসারণের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও বৃক্ষ পরিচর্যার আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব।
প্রকৃতি রক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটি বনসাই শিল্পকে বৃহত্তর পরিসরে পরিচিত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম ও পরিবেশ সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সাংবাদিকবৃন্দের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে সার্বিকভাবে আনন্দ উদ্দীপনায় আরো প্রানবন্ত করে তুলে।

স্টাফ রিপোর্টার 


















