ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দেশের সব ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা চেয়েছে সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে চীনকে বাণিজ্যমন্ত্রীর আহ্বান আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বিরুদ্ধে আপিল শুনানি ৯ জুন বদলে যাচ্ছে সময়সূচি: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে পারে বছরের শেষ দিনে ​ট্রাইব্যুনালে দীপু মনি, শাকিল আহমেদ ও মোজাম্মেল বাবু: শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে শুনানি জামায়াত সেক্রেটারি মালয়েশিয়া গেলেন মধ্যরাতে ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ পূর্বধলায় নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পিতা গ্রেফতার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির হচ্ছে জানিয়েছেন ভ্যান্স কর্ণাটকের স্কুলগুলোতে হিজাব পরার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

প্রধান বিচারপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে স্থায়ী সমাধান চান

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিয়ে শুধু সাময়িক সমাধান নয়, এ বিষয়ে সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর সমাধান চান আপিল বিভাগের বিচারপতিরা। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা এমনভাবে নির্ধারিত হতে হবে, যাতে তা বারবার সংকটে না পড়ে এবং দেশের গণতন্ত্রকে স্থায়ীভাবে শক্তিশালী করে।

আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) সকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) শুনানির দ্বিতীয় দিনে প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিই, এটি কবে থেকে কার্যকর হবে?’

সকাল ৯টা ৩৫ মিনিট থেকে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

রায়ের পটভূমি
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম. সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করে এবং ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট চূড়ান্ত শুনানি শেষে রিট খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে আপিল করা হয়। আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়।

পুনর্বিবেচনার আবেদন
২০১১ সালের এ রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য প্রথম আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি—তোফায়েল আহমেদ, এম. হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভুঁইয়া ও জাহরা রহমান।

পরবর্তীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৬ অক্টোবর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার গত বছরের ২৩ অক্টোবর পৃথকভাবে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এছাড়া নওগাঁর রানীনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও গত বছর একই ধরনের আবেদন জানান।

বর্তমানে রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিগতভাবে মোট চারটি রিভিউ আবেদন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সব ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা চেয়েছে সরকার

প্রধান বিচারপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে স্থায়ী সমাধান চান

আপডেট সময় ১২:৫০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিয়ে শুধু সাময়িক সমাধান নয়, এ বিষয়ে সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর সমাধান চান আপিল বিভাগের বিচারপতিরা। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা এমনভাবে নির্ধারিত হতে হবে, যাতে তা বারবার সংকটে না পড়ে এবং দেশের গণতন্ত্রকে স্থায়ীভাবে শক্তিশালী করে।

আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) সকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) শুনানির দ্বিতীয় দিনে প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিই, এটি কবে থেকে কার্যকর হবে?’

সকাল ৯টা ৩৫ মিনিট থেকে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

রায়ের পটভূমি
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম. সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করে এবং ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট চূড়ান্ত শুনানি শেষে রিট খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে আপিল করা হয়। আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়।

পুনর্বিবেচনার আবেদন
২০১১ সালের এ রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য প্রথম আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি—তোফায়েল আহমেদ, এম. হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভুঁইয়া ও জাহরা রহমান।

পরবর্তীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৬ অক্টোবর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার গত বছরের ২৩ অক্টোবর পৃথকভাবে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এছাড়া নওগাঁর রানীনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও গত বছর একই ধরনের আবেদন জানান।

বর্তমানে রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিগতভাবে মোট চারটি রিভিউ আবেদন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।