ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বারহাট্টায় দিনব্যাপী বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক শেরপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স শেরপুরে গণশুনানিতে ১৩ জন পেলেন হুইলচেয়ার, বিতরণ একটি ট্রাইসাইকেলও গোপালগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহে অবহিতকরণ সভা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৮৩ আসনের টিকিটসহ কালোবাজারি আটক, ৩ মাসের কারাদণ্ড রাউদগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র পানিসঙ্কট ও সংস্কারে অবহেলার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের নীরবতা শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়—পূর্বধলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দিরে চুরি, স্বর্ণালংকারসহ ছয়টি মূর্তি লুট ধামইরহাটে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পূর্বধলায় জুয়ার আসর থেকে নগদ টাকাসহ আটক ৭, মামলা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

রাউদগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র পানিসঙ্কট ও সংস্কারে অবহেলার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের নীরবতা

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১১:১৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

​হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৫৭ নম্বর রাউদগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র পানিসঙ্কট, নানাবিধ অবকাঠামোগত সমস্যা ও বিদ্যালয় সংস্কারে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ২০০ জন শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে দুটি পানির ট্যাংক ও সাবমার্সিবল পাম্প থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন বিশুদ্ধ খাবার পানির কষ্টে ভুগছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকা এবং বিদ্যালয়ের দুটি শৌচাগারই ময়লা-আবর্জনায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে পাশের বাড়ির আরজু মিয়ার ঘরে গিয়ে পানি পান করছে ও শৌচাগার ব্যবহার করছে।
​

এদিকে, গত ১১ অক্টোবর রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিদ্যালয়টির ওয়াইফাই ও বিদ্যুৎ সংযোগের তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী বা নৈশকালীন দায়িত্বে দপ্তরি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন চুরির ঘটনা ঘটলো, তা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মনে গভীর ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

​বিদ্যালয়ের জমির অন্যতম দাতা পরিবারের সদস্য মো. আবু বক্কর সিদ্দিক মঞ্জু অভিযোগ করে জানান, প্রতিবছর বিদ্যালয়ের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারি বাজেট এলেও তা সঠিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের শৌচাগার দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। গত প্রায় তিন বছর ধরে ছাদ পরিষ্কার না করায় সেখানে ময়লা-আবর্জনা জমে গাছপালা গজিয়ে উঠেছে। এছাড়া সঠিক পদক্ষেপের অভাবে বর্ষা ও শুকনো—উভয় মৌসুমেই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে থাকে।
​

এলাকাবাসী ও স্থানীয় দাতা সদস্যদের অভিযোগ, দপ্তরি নৈশকালীন দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছেন। তাছাড়া তার চুরির ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জামান স্থানীয় প্রতিনিধি, জমিদাতা কিংবা পরিচালনা কমিটির কাউকে না জানিয়ে গোপনে অন্য এলাকায় গিয়ে ভিন্নভাবে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের এমন মনগড়া ও বিতর্কিত আচরণে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

​সম্প্রতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জামান ও দপ্তরি সাহাব উদ্দিন তালুকদারের উপস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করা, শৌচাগার ও ছাদ পরিষ্কার করা এবং খেলার মাঠ সংস্কারের জোরালো দাবি জানান।

​অভিযোগ ও তার চুরির সার্বিক বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জামানের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বারবার বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং গণমাধ্যমে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

​এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী জানান, “বিদ্যুৎ সংযোগের তার চুরির বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে বাহুবল মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বলা হয়েছে। অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে অবগত করেননি।” তবে বিষয়গুলো তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বারহাট্টায় দিনব্যাপী বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক

রাউদগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র পানিসঙ্কট ও সংস্কারে অবহেলার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের নীরবতা

আপডেট সময় ১১:১৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

​হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৫৭ নম্বর রাউদগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র পানিসঙ্কট, নানাবিধ অবকাঠামোগত সমস্যা ও বিদ্যালয় সংস্কারে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ২০০ জন শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে দুটি পানির ট্যাংক ও সাবমার্সিবল পাম্প থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন বিশুদ্ধ খাবার পানির কষ্টে ভুগছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকা এবং বিদ্যালয়ের দুটি শৌচাগারই ময়লা-আবর্জনায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে পাশের বাড়ির আরজু মিয়ার ঘরে গিয়ে পানি পান করছে ও শৌচাগার ব্যবহার করছে।
​

এদিকে, গত ১১ অক্টোবর রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিদ্যালয়টির ওয়াইফাই ও বিদ্যুৎ সংযোগের তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী বা নৈশকালীন দায়িত্বে দপ্তরি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন চুরির ঘটনা ঘটলো, তা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মনে গভীর ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

​বিদ্যালয়ের জমির অন্যতম দাতা পরিবারের সদস্য মো. আবু বক্কর সিদ্দিক মঞ্জু অভিযোগ করে জানান, প্রতিবছর বিদ্যালয়ের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারি বাজেট এলেও তা সঠিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের শৌচাগার দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। গত প্রায় তিন বছর ধরে ছাদ পরিষ্কার না করায় সেখানে ময়লা-আবর্জনা জমে গাছপালা গজিয়ে উঠেছে। এছাড়া সঠিক পদক্ষেপের অভাবে বর্ষা ও শুকনো—উভয় মৌসুমেই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে থাকে।
​

এলাকাবাসী ও স্থানীয় দাতা সদস্যদের অভিযোগ, দপ্তরি নৈশকালীন দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছেন। তাছাড়া তার চুরির ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জামান স্থানীয় প্রতিনিধি, জমিদাতা কিংবা পরিচালনা কমিটির কাউকে না জানিয়ে গোপনে অন্য এলাকায় গিয়ে ভিন্নভাবে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের এমন মনগড়া ও বিতর্কিত আচরণে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

​সম্প্রতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জামান ও দপ্তরি সাহাব উদ্দিন তালুকদারের উপস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করা, শৌচাগার ও ছাদ পরিষ্কার করা এবং খেলার মাঠ সংস্কারের জোরালো দাবি জানান।

​অভিযোগ ও তার চুরির সার্বিক বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জামানের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বারবার বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং গণমাধ্যমে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

​এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী জানান, “বিদ্যুৎ সংযোগের তার চুরির বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে বাহুবল মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বলা হয়েছে। অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে অবগত করেননি।” তবে বিষয়গুলো তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।