ময়মনসিংহ , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরাতে উদ্যোগ: আলিমের সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক জুলাই থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে নবম পে-স্কেল! প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা: অনুমোদনের অপেক্ষায় ৮,১০৬ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্মবিরতি শেষে কাজে যোগ দিচ্ছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দুই পয়েন্ট থেকে ২১ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ পূর্বধলায় ৪৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ​টাইগারদের বড় পরীক্ষা: আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতি: ইসরায়েলের সঙ্গে হামলা বন্ধে একমত ইরান ভয়াবহ কম্পন ইরানে: আঘাত হানল ৫ মাত্রার ভূমিকম্প
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসনে ইরানকে একটি স্থায়ী চুক্তিতে বাধ্য করতে নতুন করে হাজার হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তেহরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চায়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন আলোচনার টেবিলে ইরানকে নমনীয় করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে দেশটিতে বড় ধরনের সামরিক হামলা বা স্থল অভিযানের পথও খোলা রাখা হচ্ছে।

বর্তমানে ইরানে চলমান অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা যুক্ত রয়েছে, নতুন এই সদস্যরা তাদের শক্তি আরও বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে ২২ এপ্রিল ইরানের সাথে বিদ্যমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই বিশাল সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করছে পেন্টাগন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো তেহরানকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে বাধ্য করা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা।

ট্রাম্প সম্প্রতি ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ইরানের সাথে এই সংঘাত ‘খুব দ্রুত’ শেষ হতে পারে। তিনি মনে করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী পর্যায়ে নেমে আসবে, যা মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে। দেশটির সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগর দিয়ে সব ধরনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ না করে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের কঠোর বিকল্প ব্যবহারের পথ খোলা রেখেছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করছে, যার প্রতিটিতে রয়েছে কয়েক ডজন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের সাথে এখন যোগ দিচ্ছে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত এই যুদ্ধজাহাজ ও সেনাসদস্য মোতায়েনের ফলে মার্কিন কমান্ডের হাতে যুদ্ধের বিকল্প অনেক বেড়ে যাবে। যদি কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে এই বিশাল সামরিক শক্তি ইরানকে সামরিকভাবে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে। মূলত অবরোধ ও সামরিক উপস্থিতির দ্বিমুখী চাপে ইরানকে একটি প্রতিকূল চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করাই ওয়াশিংটনের বর্তমান কৌশল।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরাতে উদ্যোগ: আলিমের সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন

আপডেট সময় ১০:৩০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসনে ইরানকে একটি স্থায়ী চুক্তিতে বাধ্য করতে নতুন করে হাজার হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তেহরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চায়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন আলোচনার টেবিলে ইরানকে নমনীয় করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে দেশটিতে বড় ধরনের সামরিক হামলা বা স্থল অভিযানের পথও খোলা রাখা হচ্ছে।

বর্তমানে ইরানে চলমান অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা যুক্ত রয়েছে, নতুন এই সদস্যরা তাদের শক্তি আরও বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে ২২ এপ্রিল ইরানের সাথে বিদ্যমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই বিশাল সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করছে পেন্টাগন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো তেহরানকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে বাধ্য করা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা।

ট্রাম্প সম্প্রতি ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ইরানের সাথে এই সংঘাত ‘খুব দ্রুত’ শেষ হতে পারে। তিনি মনে করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী পর্যায়ে নেমে আসবে, যা মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে। দেশটির সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগর দিয়ে সব ধরনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ না করে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের কঠোর বিকল্প ব্যবহারের পথ খোলা রেখেছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করছে, যার প্রতিটিতে রয়েছে কয়েক ডজন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের সাথে এখন যোগ দিচ্ছে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত এই যুদ্ধজাহাজ ও সেনাসদস্য মোতায়েনের ফলে মার্কিন কমান্ডের হাতে যুদ্ধের বিকল্প অনেক বেড়ে যাবে। যদি কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে এই বিশাল সামরিক শক্তি ইরানকে সামরিকভাবে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে। মূলত অবরোধ ও সামরিক উপস্থিতির দ্বিমুখী চাপে ইরানকে একটি প্রতিকূল চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করাই ওয়াশিংটনের বর্তমান কৌশল।