রোমাঞ্চকর ক্ষণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। আগামী ১২ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে এক বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর বিশ্বজুড়ে এটিই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, যা ১৯৯৯ সালের পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে প্রথমবার দৃশ্যমান হবে।
পূর্ণগ্রাসের পথ: প্রচ্ছায়া আর্কটিক অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে পশ্চিম আইসল্যান্ড, উত্তর-পূর্ব পর্তুগাল এবং উত্তর স্পেন অতিক্রম করবে। স্পেনের লিওন, বুর্গোস, ভায়াদোলিদ, সানতান্দের, বিলবাও, জারাগোজা, ভ্যালেন্সিয়া ও পালমা শহর থেকে এই বিরল দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে।
বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমানতা: ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় দেড় কোটি মানুষ পূর্ণগ্রাসের পথে অবস্থান করবেন, যাদের বেশিরভাগই স্পেনের বাসিন্দা। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৮ কোটি মানুষ—অর্থাৎ প্রতি আটজনের একজনের বেশি—সূর্যের আংশিক বা পূর্ণ রূপ প্রত্যক্ষ করতে পারবেন।
চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ঢেকে দেয়, তখন সূর্যগ্রহণ ঘটে। চাঁদের ছায়া সূর্যের পুরো চাকতিকে ঢেকে ফেললে তাকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলা হয়। সূর্যের ব্যাস চাঁদের চেয়ে প্রায় ৪০০ গুণ বড় হলেও এটি পৃথিবী থেকে চাঁদের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ দূরে অবস্থিত। ফলে পৃথিবী থেকে দুটিকেই আকাশে প্রায় সমান আকারের মনে হয় এবং পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সম্ভব হয়।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রতি বছর দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ (আংশিক, বলয়গ্রাস, পূর্ণগ্রাস ও সংকর) দেখা যায়। তবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ তুলনামূলক বিরল; প্রতি এক শতকে গড়ে প্রায় ৬৬ বার বা দেড় বছর পরপর এটি ঘটে থাকে। মোট সূর্যগ্রহণের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আংশিক, এক-তৃতীয়াংশ বলয়গ্রাস, এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি পূর্ণগ্রাস এবং মাত্র ৫ শতাংশ সংকর ধরনের হয়ে থাকে।
বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত অঞ্চলে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাওয়ায় কোটি কোটি মানুষ এই মহাজাগতিক ঘটনাটি উপভোগ করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ডিজিটাল ডেস্ক 

























