হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৫৭ নম্বর রাউদগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র পানিসঙ্কট, নানাবিধ অবকাঠামোগত সমস্যা ও বিদ্যালয় সংস্কারে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ২০০ জন শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে দুটি পানির ট্যাংক ও সাবমার্সিবল পাম্প থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন বিশুদ্ধ খাবার পানির কষ্টে ভুগছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকা এবং বিদ্যালয়ের দুটি শৌচাগারই ময়লা-আবর্জনায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে পাশের বাড়ির আরজু মিয়ার ঘরে গিয়ে পানি পান করছে ও শৌচাগার ব্যবহার করছে।
এদিকে, গত ১১ অক্টোবর রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিদ্যালয়টির ওয়াইফাই ও বিদ্যুৎ সংযোগের তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী বা নৈশকালীন দায়িত্বে দপ্তরি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন চুরির ঘটনা ঘটলো, তা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মনে গভীর ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের জমির অন্যতম দাতা পরিবারের সদস্য মো. আবু বক্কর সিদ্দিক মঞ্জু অভিযোগ করে জানান, প্রতিবছর বিদ্যালয়ের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারি বাজেট এলেও তা সঠিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের শৌচাগার দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। গত প্রায় তিন বছর ধরে ছাদ পরিষ্কার না করায় সেখানে ময়লা-আবর্জনা জমে গাছপালা গজিয়ে উঠেছে। এছাড়া সঠিক পদক্ষেপের অভাবে বর্ষা ও শুকনো—উভয় মৌসুমেই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে থাকে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় দাতা সদস্যদের অভিযোগ, দপ্তরি নৈশকালীন দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছেন। তাছাড়া তার চুরির ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জামান স্থানীয় প্রতিনিধি, জমিদাতা কিংবা পরিচালনা কমিটির কাউকে না জানিয়ে গোপনে অন্য এলাকায় গিয়ে ভিন্নভাবে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের এমন মনগড়া ও বিতর্কিত আচরণে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জামান ও দপ্তরি সাহাব উদ্দিন তালুকদারের উপস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করা, শৌচাগার ও ছাদ পরিষ্কার করা এবং খেলার মাঠ সংস্কারের জোরালো দাবি জানান।
অভিযোগ ও তার চুরির সার্বিক বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জামানের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বারবার বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং গণমাধ্যমে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী জানান, “বিদ্যুৎ সংযোগের তার চুরির বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে বাহুবল মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বলা হয়েছে। অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে অবগত করেননি।” তবে বিষয়গুলো তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

স্টাফ রিপোর্টার 


















