নেত্রকোণার দুর্গম উপজেলা খালিয়াজুড়ী থানা পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় তিনি নেত্রকোণা জেলা সদর থেকে খালিয়াজুড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল খালিয়াজুড়ী থানার নির্মাণাধীন নতুন ভবনের কাজ সরেজমিনে তদারকি করা এবং দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি করা।
জানা যায়, দীর্ঘদিন পর খালিয়াজুড়ী থানায় কোনো রেঞ্জ ডিআইজির সরেজমিন সফর এটি। এর আগে ২০১৬ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন খালিয়াজুড়ী থানা পরিদর্শন করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।চারদিকে পানি দ্বারা পরিবেষ্টিত খালিয়াজুড়ী উপজেলায় যোগাযোগব্যবস্থাও বেশ দুর্গম। বছরের প্রায় পাঁচ মাস নৌপথে, পাঁচ মাস সড়কপথে এবং অবশিষ্ট দুই মাস পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হয় বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।
নেত্রকোণা জেলা সদর থেকে সরকারি গাড়িযোগে ডিআইজি মদন উপজেলার উচিতপুর ঘাটে পৌঁছান। সেখান থেকে রেসকিউ বোটযোগে নৌপথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খালিয়াজুড়ী বাজার ঘাটে পৌঁছান তিনি। পরে ঘাট থেকে সাধারণ যাত্রীর মতো অটোরিকশায় করে খালিয়াজুড়ী থানায় যান ডিআইজি।
থানায় পৌঁছালে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন তাঁকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরে ডিআইজি নির্মাণাধীন আধুনিক থানা ভবনটি ঘুরে দেখেন। এ সময় ভবন নির্মাণকাজের গুণগত মান ও অগ্রগতি সম্পর্কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি পুরাতন থানা ভবন ও থানা কম্পাউন্ড ঘুরে দেখেন। পরে থানায় কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
বক্তব্যে ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জনগণের সেবাপ্রাপ্তি সহজতর করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে তদারকি এবং পূর্ণ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।এ সময় নেত্রকোণা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, নেত্রকোণার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হারাধন সূত্রধর: পূর্বধলা (নেত্রকোণা) বিশেষ প্রতিনিধি 


















