ময়মনসিংহ , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুর্গম খালিয়াজুড়ী থানায় ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি, পরিদর্শনে নির্মাণাধীন নতুন ভবন ধনী আইনজীবী হওয়ার শর্টকাট থাকলেও ভালো হতে পড়াশোনার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী প্রকৃতি রক্ষার বার্তা নিয়ে ঢাবিতে রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটির আয়োজনে কর্মশালা নেত্রকোনায় পৃথক মোবাইল কোর্টে ৮৭ হাজার টাকা জরিমানা, দুইজনের কারাদণ্ড শার্শার রুদ্রপুর সীমান্ত থেকে ৫৫০ বোতল ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার প্রেস ক্লাবের নবগঠিত ৩১ সদস্যের কমিটির সংবাদ সম্মেলন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ১০২.৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০ আবারও কি নৌযান আর মানুষের কোলাহলে মুখর হবে নেত্রকোনার প্রাণ মগড়া নদী খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত: নতুন সদস্য গ্রহণ ও ৫ সদস্যের কমিটি গঠন পাবনার চাটমোহরে পুকুরের পানিতে ডুবে একইসাথে দুই শিশুর মৃত্যু
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ধনী আইনজীবী হওয়ার শর্টকাট থাকলেও ভালো হতে পড়াশোনার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী

  • ডিজিটাল রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

একজন ধনী আইনজীবী হওয়ার শর্টকাট পথ থাকলেও ভালো আইনজীবী হতে হলে কঠোর শ্রম, অধ্যবসায় ও নিয়মিত পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ল ফেস্ট’-এ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

আইনমন্ত্রী বলেন, “একজন ধনী আইনজীবী হওয়ার শর্টকাট উপায় আছে—আর তা হলো ফিক্সিং অ্যান্ড ফক্সিং। কিন্তু একজন প্রকৃত ভালো আইনজীবী হতে গেলে পড়াশোনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।” আইনজীবীদের সমাজের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সমাজ প্রতিনিয়ত নানা ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে যায়। আইনজীবীরা আইনি দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নেন। তাই তাদের প্রতিটি বক্তব্য ও শব্দচয়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আইন পেশার সঙ্গে চিকিৎসা পেশার তুলনা করে তিনি বলেন, “চিকিৎসক রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে মূলত নিজের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু একজন আইনজীবীকে আদালতে দাঁড়িয়ে বিচারক, প্রতিপক্ষের আইনজীবী, নিজের মক্কেল এবং সংশ্লিষ্ট সবার কথা বিবেচনা করে কথা বলতে হয়। সঠিকভাবে আইন উপস্থাপন এবং তথ্য-উপাত্ত যথাযথভাবে বিশ্লেষণের গুরুদায়িত্ব আইনজীবীর ওপরই বর্তায়।”

 

পেশাগত জীবনের শুরুর সংগ্রামের কথা তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক আইনজীবীকেই দীর্ঘ সময় বিনা পারশ্রমিকে কাজ করতে হয়। তবে দীর্ঘদিনের পড়াশোনা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে এমন এক পর্যায় আসে, যখন আইনজীবীর কেবল উপস্থিতিই সাফল্যের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। এ সময় তিনি নিজের সিনিয়র আইনজীবীর অধীনে কর মামলার কাজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান।

 

আইনমন্ত্রী জানান, আইন পেশাকে দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নবীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পেশাজীবনে অনেক প্রলোভন আসবে, কিন্তু সব সময় সত্য ও নৈতিকতার পথ বেছে নিতে হবে। কারণ আইনজীবী শুধু মক্কেলের রক্ষকই নন, তিনি আদালতেরও একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

 

আইন সংস্কারের কাজে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রচলিত কোনো আইনে অসঙ্গতি বা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা চোখে পড়লে শিক্ষার্থীরা সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব ও খসড়া পাঠাতে পারেন। সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

 

বাংলাদেশের রূপান্তরে শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামীতেও গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মের এই অগ্রণী ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গম খালিয়াজুড়ী থানায় ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি, পরিদর্শনে নির্মাণাধীন নতুন ভবন

ধনী আইনজীবী হওয়ার শর্টকাট থাকলেও ভালো হতে পড়াশোনার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:৩৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একজন ধনী আইনজীবী হওয়ার শর্টকাট পথ থাকলেও ভালো আইনজীবী হতে হলে কঠোর শ্রম, অধ্যবসায় ও নিয়মিত পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ল ফেস্ট’-এ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

আইনমন্ত্রী বলেন, “একজন ধনী আইনজীবী হওয়ার শর্টকাট উপায় আছে—আর তা হলো ফিক্সিং অ্যান্ড ফক্সিং। কিন্তু একজন প্রকৃত ভালো আইনজীবী হতে গেলে পড়াশোনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।” আইনজীবীদের সমাজের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সমাজ প্রতিনিয়ত নানা ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে যায়। আইনজীবীরা আইনি দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নেন। তাই তাদের প্রতিটি বক্তব্য ও শব্দচয়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আইন পেশার সঙ্গে চিকিৎসা পেশার তুলনা করে তিনি বলেন, “চিকিৎসক রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে মূলত নিজের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু একজন আইনজীবীকে আদালতে দাঁড়িয়ে বিচারক, প্রতিপক্ষের আইনজীবী, নিজের মক্কেল এবং সংশ্লিষ্ট সবার কথা বিবেচনা করে কথা বলতে হয়। সঠিকভাবে আইন উপস্থাপন এবং তথ্য-উপাত্ত যথাযথভাবে বিশ্লেষণের গুরুদায়িত্ব আইনজীবীর ওপরই বর্তায়।”

 

পেশাগত জীবনের শুরুর সংগ্রামের কথা তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক আইনজীবীকেই দীর্ঘ সময় বিনা পারশ্রমিকে কাজ করতে হয়। তবে দীর্ঘদিনের পড়াশোনা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে এমন এক পর্যায় আসে, যখন আইনজীবীর কেবল উপস্থিতিই সাফল্যের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। এ সময় তিনি নিজের সিনিয়র আইনজীবীর অধীনে কর মামলার কাজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান।

 

আইনমন্ত্রী জানান, আইন পেশাকে দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নবীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পেশাজীবনে অনেক প্রলোভন আসবে, কিন্তু সব সময় সত্য ও নৈতিকতার পথ বেছে নিতে হবে। কারণ আইনজীবী শুধু মক্কেলের রক্ষকই নন, তিনি আদালতেরও একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

 

আইন সংস্কারের কাজে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রচলিত কোনো আইনে অসঙ্গতি বা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা চোখে পড়লে শিক্ষার্থীরা সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব ও খসড়া পাঠাতে পারেন। সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

 

বাংলাদেশের রূপান্তরে শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামীতেও গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মের এই অগ্রণী ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।