ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নেত্রকোনায় ‘নিউট্রিশন স্মার্ট কমিউনিটি প্রজেক্ট’ বিষয়ক সূচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ রেঞ্জের আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত দক্ষিণ রাউজানে লিটন মহাজনের রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা পূর্বধলা শ্যামগঞ্জে বাসে তল্লাশি, ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ যুবক আটক আনন্দমুখর পরিবেশে গাজীপুরের কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ সম্পন্ন গোপালপুরে অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান, ১২०० মিটার জাল ধ্বংস পাঁচবিবির গ্যালাক্সি ড্রাগন বাগান পরিদর্শন করলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ নবীনগরে তিতাস পাড়ের অবৈধ বালু অপসারণ শুরু ১৫ দিনের সময়সীমা শেষ, নদী রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন টেকনাফে নাফ নদীতে বস্তা ফেলে পাচারকারীদের লাপাত্তা, ১৪ হাজার ইয়াবাসহ জব্দ ৭০ লাখ টাকার মাদক পুকুরে মিলল যুবকের মরদেহ, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ১
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

নলছিটির বিভিন্ন খাল-বিলে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল

সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও নলছিটির বিভিন্ন খালে ও বিলে চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে কিছু অসাধু মৎস্য শিকারী। শহরের বিভিন্ন জালের দোকানে গোপনে বিক্রি হচ্ছে চায়না দুয়ারী জাল। অভিযান পরিচালনা করার কথা জানালেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(অঃদাঃ) রিজবী আহমেদ সবুজ।

নলছিটি পৌর এলাকার বাসিন্দা হেলাল তালুকদার বলেণ, এখন অনেকেই চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করেন। এমনকি নদীর তীরেও এই জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। আগে কারেন্ট জালে মাছের বংশসহ ধ্বংস করেছে এখন বাকিটা ধ্বংস করছে এই চায়না দুয়ারী জাল। এই জালে মাছের রেনুসহ সকল জলজ প্রানীর পোনা ধ্বংস হয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছসহ জলজ জীব বৈচিত্র আজ হুমকির মুখে পরেছে। সরকার নিষিদ্ধ করলেও আমার গ্রামের খালে বিলে ও ধান ক্ষেতে অহরহ এই জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। চায়না দুয়ারী জাল একবার পানিতে ফেলে মাসের পর মাস রেখে দেয়া হয় যার কারনে মাছের পোনাসহ অন্যান্য জলজ প্রানী সহসাই জালে আটকা করে ব্যাপক হারে মারা পরছে।

শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, এখন গ্রাম্য বাজারগুলোতে দেশীয় মাছের প্রধান্য আর দেখা যায় না। ইতিমধ্যে অনেকগুলো দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়েছে। আর যেগুলো আছে সেগুলোও আর হয়তো বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। অথচ এই দেশীয় মাছ আমাদের আমিষের চাহিদা মেটায়। আর এই মাছ কমে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন হাইব্রিড মাছে বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে যেগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। সরকারের উচিত চায়না দুয়ারী জালের উৎপাদন পর্যায়ে কঠোর নজরদারি করে ব্যবস্থা নেয়া।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মৎস্যজীবি বলেন,চায়না দুয়ারী জাল সহজে পঁচে যায় না অনেক দিন ব্যবহার করা যায় তাই অনেকেই এগুলো দিয়ে মাছ শিকার করেন। আর একটি কারন হলো আমাদের দেশীয় যে মাছ ধরার জাল আছে সেগুলো পঁচে যায় যার কারনে সেগুলো দীর্ঘসময় পানিতে রাখা যায় না মাঝে মাঝে উঠিয়ে রাখতে হয়। অন্যদিকে চায়না দুয়ারী জাল একটানা পানিতে রেখে মাসের পর মাস মাছ শিকার করা যায়। এছাড়া এগুলো দামেও সস্তা। সহসাই বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যায়।

নলছিটি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় আমরা সারাবছরই চায়না দুয়ারী জালসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ জালগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। এখন বর্ষা মৌসুম হওয়ায় জালের আধিক্য বেড়েছে। খুব শীঘ্রই উপজেলাব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হবে।

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(অঃদাঃ) রিজবী আহমেদ সবুজ বলেন, চায়না দুয়ারী জাল সরকারীভাবে নিষিদ্ধ । এই জাল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারীভাবে কঠোর নির্দেশনা আছে। আমরা উপজেলা মৎস্য অফিসকে সাথে নিয়ে চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।ফটো ক্যাপশনঃ নলছিটির মালিপুর এলাকায় চায়না দুয়ারী জাল ফেলে মাছ শিকার করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনায় ‘নিউট্রিশন স্মার্ট কমিউনিটি প্রজেক্ট’ বিষয়ক সূচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নলছিটির বিভিন্ন খাল-বিলে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল

আপডেট সময় ০২:২৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও নলছিটির বিভিন্ন খালে ও বিলে চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে কিছু অসাধু মৎস্য শিকারী। শহরের বিভিন্ন জালের দোকানে গোপনে বিক্রি হচ্ছে চায়না দুয়ারী জাল। অভিযান পরিচালনা করার কথা জানালেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(অঃদাঃ) রিজবী আহমেদ সবুজ।

নলছিটি পৌর এলাকার বাসিন্দা হেলাল তালুকদার বলেণ, এখন অনেকেই চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করেন। এমনকি নদীর তীরেও এই জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। আগে কারেন্ট জালে মাছের বংশসহ ধ্বংস করেছে এখন বাকিটা ধ্বংস করছে এই চায়না দুয়ারী জাল। এই জালে মাছের রেনুসহ সকল জলজ প্রানীর পোনা ধ্বংস হয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছসহ জলজ জীব বৈচিত্র আজ হুমকির মুখে পরেছে। সরকার নিষিদ্ধ করলেও আমার গ্রামের খালে বিলে ও ধান ক্ষেতে অহরহ এই জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। চায়না দুয়ারী জাল একবার পানিতে ফেলে মাসের পর মাস রেখে দেয়া হয় যার কারনে মাছের পোনাসহ অন্যান্য জলজ প্রানী সহসাই জালে আটকা করে ব্যাপক হারে মারা পরছে।

শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, এখন গ্রাম্য বাজারগুলোতে দেশীয় মাছের প্রধান্য আর দেখা যায় না। ইতিমধ্যে অনেকগুলো দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়েছে। আর যেগুলো আছে সেগুলোও আর হয়তো বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। অথচ এই দেশীয় মাছ আমাদের আমিষের চাহিদা মেটায়। আর এই মাছ কমে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন হাইব্রিড মাছে বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে যেগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। সরকারের উচিত চায়না দুয়ারী জালের উৎপাদন পর্যায়ে কঠোর নজরদারি করে ব্যবস্থা নেয়া।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মৎস্যজীবি বলেন,চায়না দুয়ারী জাল সহজে পঁচে যায় না অনেক দিন ব্যবহার করা যায় তাই অনেকেই এগুলো দিয়ে মাছ শিকার করেন। আর একটি কারন হলো আমাদের দেশীয় যে মাছ ধরার জাল আছে সেগুলো পঁচে যায় যার কারনে সেগুলো দীর্ঘসময় পানিতে রাখা যায় না মাঝে মাঝে উঠিয়ে রাখতে হয়। অন্যদিকে চায়না দুয়ারী জাল একটানা পানিতে রেখে মাসের পর মাস মাছ শিকার করা যায়। এছাড়া এগুলো দামেও সস্তা। সহসাই বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যায়।

নলছিটি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় আমরা সারাবছরই চায়না দুয়ারী জালসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ জালগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। এখন বর্ষা মৌসুম হওয়ায় জালের আধিক্য বেড়েছে। খুব শীঘ্রই উপজেলাব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হবে।

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(অঃদাঃ) রিজবী আহমেদ সবুজ বলেন, চায়না দুয়ারী জাল সরকারীভাবে নিষিদ্ধ । এই জাল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারীভাবে কঠোর নির্দেশনা আছে। আমরা উপজেলা মৎস্য অফিসকে সাথে নিয়ে চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।ফটো ক্যাপশনঃ নলছিটির মালিপুর এলাকায় চায়না দুয়ারী জাল ফেলে মাছ শিকার করা হচ্ছে।